বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

· Prothom Alo

অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা ব্যাটেই লাগাতে পারলেন না তাসমিয়া রুবাব। বলটা গেল উইকেটের পেছনে থাকা নিগার সুলতানার হাতে। সঙ্গে সঙ্গেই দু হাত ছড়িয়ে দিলেন তিনি। দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন বোলার মারুফা আক্তারকে।

একটু পর সেখানে জড়ো হলেন দলের বাকিরাও। আগেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে থাকা জয়ের ব্যবধানটা ঠিক হয়েছে ইনিংসের শেষ বলে, তারপরই বাংলাদেশের মেয়েদের এমন উদ্‌যাপন। আজ সাউদাম্পটনে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

Visit forestarrow.help for more information.

তাতে একটা ইতিহাসও গড়া হয়েছে তাদের—   নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে আগে কখনো দুটি জয় ছিল না বাংলাদেশের। এবার প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিলেন নিগার সুলতানারা, দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে না পারলেও তৃতীয় ম্যাচেই তারা পেয়েছে দ্বিতীয় জয়।

কাজটা অবশ্য কঠিনই মনে হচ্ছিল ম্যাচের বেশির ভাগ সময়। ১২৪ রান তাড়া করতে নামা পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়েই তুলে ফেলেছিল ৩৯ রান। কিন্তু পরের কয়েক ওভারেই বদলে যায় সবকিছু। একের পর এক উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার।

১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফিরোজ তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দেন সোবহানা মোস্তারির হাতে। ৩০ বলে ২৫ রান করা মুনিবা আলীও আউট হন নাহিদার বলেই। তাঁর বিদায়ের পরও পাকিস্তানকে কিছুক্ষণ লড়াইয়ে রাখেন আয়েশা জাফর। ১২ বলে ১১ রান করে আয়েশা সানজিদা আক্তারের বলে বিদায় নেওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ওই ওভারেই আরও এক উইকেট পান সানজিদা, এক ওভার পর আরও একটি। বাকিটা সময়ও বাংলাদেশের বোলারদের চাপ সামলাতে পারেননি।

প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের বাইরে পাকিস্তানের আর একজনই দুই অঙ্কে নিতে পেরেছিলেন ব্যক্তিগত সংগ্রহ— ১৭ বলে ১০ রান আসে ফাতিমা সানার ব্যাট থেকে। পুরো ২০ ওভার খেললেও ৮ উইকেটে ১০০ রানে থামে পাকিস্তান নারী দল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাট হাতেও শুরুটা একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। স্কোরবোর্ডে রান যখন ১৩, ততক্ষণে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

১৯ বলে ২২ রান করে সোবহানা আউট হলে নিগারের সঙ্গে তাঁর ২৯ বলে ৩৫ রানের জুটিটা ভেঙে যায়। তাঁর বিদায়ের পর দলের রান তোলার গতি কিছুটা কমে আসে। ৩৮ বলে ৩৬ রান করে অধিনায়ক নিগার আর ১৬ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যান রিতু মনি।

তবু যে বাংলাদেশের রানটা ১২০ পেরোয়, তা আসলে স্বর্ণা আক্তারের কল্যাণে। দুর্দান্ত কিছু শট খেলা এই ব্যাটার ২২ বলে ৩৯ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। ওই রানগুলোই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশের।

তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ আছে তিনে। ছয় দলের গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠবে দুটি দল। শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ রানে হেরে টি–টুয়েন্টি সিরিজও হারল বাংলাদেশ

Read full story at source