এশিয়ার ফুটবলের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছে জাপান

· Prothom Alo

বিশ্বকাপ শুরুর আগে চমকে দেওয়া দলের তালিকায় অনেকেই রেখেছিলেন জাপানকে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ড্র করার পর আজ সকালে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের ৪-০ গোলের জয় জানিয়ে দিল, ধারণাটা মোটেই অমূলক নয়। এই বিশ্বকাপে তারা যেতে পারে অনেক অনেক দূর।

Visit moryak.biz for more information.

মেক্সিকোর মন্তেইরেতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের ম্যাচটা মাঠে গড়ানোর আগেই অবশ্য বিশেষ মর্যাদা পেয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি যে ১০০০তম ম্যাচ! দুই দলের সব খেলোয়াড়, রেফারিরা বিশেষ জার্সি পরে নেমেছিলেন এই উপলক্ষে। দিন শেষে ম্যাচটা অবশ্য জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়েই থেকেছে। অন্যদিকে দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তিউনিসিয়া। তাদের জন্য এটা হয়ে থাকবে ভুলে যাওয়ার মতো এক ম্যাচ।

একটা সময় এশিয়ায় ফুটবলের বিজ্ঞাপন ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ধীরে ধীরে সেই জায়গাটা নিজেদের করে নিচ্ছে জাপান। ২০১৯ সালের পর কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে হারেনি জাপান, এ সময়ে খেলেছে ১০টি ম্যাচ। তবে তিউনিসিয়ার ম্যাচে জাপান যেমন খেলল, তাতে স্পষ্ট তারা এশিয়ার ফুটবলের তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলেরই পরাশক্তি হয়ে উঠছে। বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলো ১৫১টি ম্যাচ খেলে এর আগে কখনোই চার গোল করতে পারেনি। জাপান সেই মাইলফলকটাও পেরোল আজ।

জাপানের প্রথম গোলটি দাইচি কামাদার

ম্যাচের শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জাপান। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই কেইতো নাকামুরার ক্রস থেকে দাইচি কামাদার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই জাপানের দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৮ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে শিনজি কাগাওয়া গোল করেছিলেন ষষ্ঠ মিনিটে। ৩১ মিনিতে আয়াসে উয়েদা ব্যবধান বাড়ান, তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক বাধা না হলে এই অর্ধেই আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারত জাপান। ৬৯ মিনিটে জুনিয়া ইতোর তৃতীয় গোলের পর ৮৩ মিনিটে উয়েদা করেন নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের চতুর্থ গোল। বিশ্বকাপে জাপানের হয়ে প্রথম এক ম্যাচে জোড়া গোলের কীর্তিও হয়ে গেল উয়েদার।

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের বড় জয়

তবে গোলসংখ্যার বাইরেও জাপান সবার মন কেড়েছে ট্যাকটিক্যালি নিখুঁত ও দারুণ আনন্দদায়ী ফুটবল খেলে। তার বড় কৃতিত্ব অবশ্যই জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসুর। ম্যাচ শেষে মরিয়াসু বললেন, জাপান জানত এই ম্যাচে তারা কী করতে চায়, ‘আমরা প্রতিপক্ষ কী করবে, সেটা নিয়ে বেশি ভাবিনি। আমরা বরং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছি। নিজেদের পরিকল্পনায় আমরা ঠিক ছিলাম।’

তিউনিসিয়াকে হারানোর পর জাপানি খেলোয়াড়েরা

অথচ এই বিশ্বকাপের আগে জাপান দল হারিয়ে ফেলে তাদের একাদশের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে। কাইরু মিতোমা, তাকুমি মিনামিনো ও অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো ছিটকে যান বিশ্বকাপের আগেই। কিন্তু জাপান এই তিনজনকে ছাড়াই বিশ্বকাপে নিজেদের চেনাচ্ছে।

এলয় রম, মেসির সঙ্গে ছবিটা এবার সরিয়ে ফেলতে পারেন

এ জয় নকআউট পর্বের দিকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে জাপানকে। শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে জয় তো বটেই, ড্র, এমনকি হারলেও সুযোগ থাকবে পরের পর্বে যাওয়ার। তবে জাপান যেমন খেলছে, তাতে জয়টাকেই পাখির চোখ করবে তারা। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে তাদের রেকর্ড মনে রাখলে তো বটেই!

যেখানে ম্যাচ, সেখানেই ইনফান্তিনো, কীভাবে পারছেন

Read full story at source