বার্সেলোনার দাপট কমাতে ১৬ বছর আগের ফর্মুলায় রিয়াল মাদ্রিদ
· Prothom Alo

ইউরোপে রিয়াল মাদ্রিদই রাজা, চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি আছে রেকর্ড ১৫টি। স্পেনে লা লিগাও বেশি রিয়ালেরই। বার্সেলোনার চেয়ে সাতটি বেশি। তবে এই হিসাবটা দুই দলের শত বছরের সাফল্য মিলিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বার্সেলোনাই বেশি এগিয়ে, বিশেষ করে ঘরোয়া ফুটবলে। লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ—এই তিন প্রতিযোগিতার গত দুই মৌসুমের ছয় ট্রফির পাঁচটিই জিতেছে বার্সা, রিয়ালের নেই একটিও।
Visit moryak.biz for more information.
এবার কাতালান ক্লাবটির আধিপত্য ভাঙতে চায় ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের দল। বেশি ট্রফি জেতার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের বড় বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে রিয়াল যা করছে, তা ফিরিয়ে আনছে ২০১০ সালের দৃশ্য। কাকতালীয় ঘটনা হচ্ছে সেবারের মতো এবারও বার্সেলোনার খেলোয়াড়ে ভরা দল নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর বিশ্লেষণ, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ২০১০ সালের মতো যে রিয়ালের উদ্যোগকে নিছক কাকতালীয় বলার সুযোগ নেই।
তখনো বার্সেলোনা ছিল ইউরোপের সেরা ছন্দে থাকা দল। পেপ গার্দিওলার অধীনে ২০০৯ সালে ট্রেবল জয়ের পর ঘরোয়া ও মহাদেশীয় ফুটবলে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল বার্সা। লিওনেল মেসি নামের এক জাদুকরে ভর করে দলটি পরের কয়েক বছরও রাজত্ব করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। ওই সময় রিয়াল প্রেসিডেন্ট ইন্টার মিলান থেকে জোসে মরিনিওকে কোচ করে মাদ্রিদে নিয়ে আসেন।
পর্তুগিজ কোচকে দলে ভেড়াতে তখন ক্ষতিপূরণও গুনতে হয়েছিল। তবে পেরেজ তখন সাফল্য পেতে মরিয়া। দলবদলের বাজারেও ঢালতে শুরু করেন বড় বিনিয়োগ। বেনফিকা থেকে আনহেল দি মারিয়া, ভের্ডার ব্রেমেন থেকে বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো মেসুত ওজিল, স্টুটগার্ট থেকে সামি খেদিরা এবং মরিনিওর সাবেক শিষ্য রিকার্দো কারভাহালকে দলে নেয় রিয়াল। সঙ্গে যোগ দেন সার্হিও কানালেস ও পেদ্রো লেওন। এর আগের গ্রীষ্মেই অবশ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা, করিম বেনজেমা ও জাবি আলোনসোকে দলে এনে রেকর্ড অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিল ক্লাবটি।
ঘরোয়ায় বার্সার দাপট কমাতে চায় রিয়াল১৬ বছর পর সেই একই দৃশ্য যেন আবারও দেখা যাচ্ছে। মরিনিওকে আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে এনেছেন পেরেজ। এবার তাঁর হাতে আরও শক্তিশালী দল তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে রিয়ালে যোগ দিয়েছেন মার্ক কুকুরেয়া, ডেনজেল ডামফ্রিস, ইব্রাহিমা কোনাতে ও বের্নার্দো সিলভা। কুকুরেয়ার জন্য চেলসিকে ৬ কোটি ইউরো এবং ডামফ্রিসের জন্য ইন্টার মিলানকে ২ কোটি ইউরো দিয়েছে রিয়াল। কোনাতে ও বের্নার্দো সিলভা অবশ্য লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিনা ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়েছেন।
কিন্তু এখানেই থামছে না রিয়ালের পরিকল্পনা। বিশ্বকাপের পর আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে দলে আনতে ১০ কোটির বেশি ইউরো খরচের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকেও দলে টানতে তিন অঙ্কের প্রস্তাব প্রস্তুত রেখেছে দলটি। এএসের মতে, রদ্রি ও দিওমান্দের চুক্তি দুটি সম্পন্ন হলে ২০১০ সালের তুলনায় মরিনিওর জন্য এবার আরও বড় বিনিয়োগ হবে রিয়ালের।
২০২৬–২৭ মৌসুমে জোসে মরিনিওকে ফিরিয়ে এনেছে রিয়ালতবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করলেই যে সাফল্য নিশ্চিত নয়, সেই অভিজ্ঞতা অবশ্য রিয়ালের জন্য তরতাজাই। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ১৮ কোটির বেশি ইউরোয় ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ডিন হুইসেন, আলভারো কারেরাস ও ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে দলে ভিড়িয়েছিল ক্লাবটি। কিন্তু এক বছর পরও তাঁদের কেউই প্রথম একাদশে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে পারেননি।
আলেক্সান্ডার আর্নল্ডকে তো জুন-জুলাইয়ের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে আগেভাগেই নিয়ে আসা হয়েছিল। চোট আর ফর্মের কারণে ইংলিশ এই ডিফেন্ডার পরে এ বছরের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেই জায়গা করতে পারেননি। এএস মনে করছে, রিয়ালের এবারের দলবদল শুধু স্কোয়াড শক্তিশালী করার চেষ্টা নয়; বরং আগের বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর আরও বড় পরিসরে নতুন করে শুরু করার প্রচেষ্টা।
২০১০ সালের সেই বড় বিনিয়োগ কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগেনি। প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া তিন ট্রফির মধ্যে শুধু কোপা দেল রেই জিততে পেরেছিল মরিনিওর দল, লিগ ও সুপার কাপ জিতেছিল বার্সা, সঙ্গে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগও।
এবার টিভি সিরিজে অভিনয় করবেন রোনালদো