বিপদে পড়া মার্তিনেজকে উদ্ধার করে জ্যাকেট উপহার পেলেন ভক্ত
· Prothom Alo

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার পর নিজ শহর মার দেল প্লাতায় ছুটি কাটাচ্ছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে ছুটির মধ্যেই বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে, যেখানে শেষ পর্যন্ত এক ভক্ত উদ্ধার করেছেন তাঁকে।
সিয়েরা দে লস পাদ্রেস এলাকায় দিবুর পিকআপ ট্রাক কাদায় আটকে যায় সৌভাগ্যবশত সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় এক তরুণ তাঁকে চিনে ফেলেন। পরে তিনি নিজের গাড়ি দিয়ে টেনে ট্রাকটি কাদা থেকে তুলে আনেন।
ওই তরুণের নাম লিওনার্দো আলবারাসিন। স্থানীয় এই বাসিন্দা সেদিন শুধু মার্তিনেজের সঙ্গে একটি ছবি তোলার আশায় এলাকায় ঘুরছিলেন। কিন্তু ছবি তোলার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যেখানে অজান্তেই হয়ে ওঠেন বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষকের বিপদের সময়ের ত্রাণকর্তা।
Visit playerbros.org for more information.
আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র লা ক্যাপিটালকে আলবারাসিন বলেন, ‘অনেক বৃষ্টি হয়েছিল, তাই মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলাম। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। একসময় দূরে দুটি পিকআপ দেখতে পেলাম। ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে প্রায় দুই মিটার লম্বা এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তখন আমার ছেলে বলল, “বাবা, উনি তো দিবু!” প্রথমে আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে সত্যিই উনিই ছিলেন।’
আর্জেন্টিনা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজআলবারাসিন বলেন, ‘আমরা পাঁচ-ছয় মিটার দূরে মোটরসাইকেল থামালাম। হেলমেট খুলেই চিৎকার করে বললাম, ‘দিবু! চ্যাম্পিয়ন!’ তিনি তখন দুই হাত পকেটে রেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমাদের ডাক শুনেই তাঁর সেই চেনা হাসিটা ফুটে উঠল।’
আলবারাসিনের ভাষ্য, কাদায় আটকে পড়া এক বন্ধুর গাড়ি টেনে বের করতে গিয়েছিলেন দিবু। কিন্তু বন্ধুকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁর নিজের পিকআপ ট্রাকটিও কাদায় আটকে যায়।
আলবারাসিনের ভাষ্য, ‘আমরা কোনোভাবেই তাঁকে বিরক্ত করতে চাইনি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম কী হয়েছে। তিনি সব খুলে বললেন। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের কাছে কোনো ছুরি আছে কি না। দড়ির গিঁট খুলতে পারছিলেন না তাঁরা। আমার কাছে একটি ছুরি ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গেই কাদায় নেমে গিঁট খুলতে চেষ্টা করি।’
মার্তিনেজের আচরণের প্রশংসা করে আলবারাসিন বলেন, ‘আমি দিবুর মানবিক দিকটাই তুলে ধরতে চাই। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ! ফুটবল বা বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের কোনো কথাই হয়নি। মনে হচ্ছিল, অনেক দিনের পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছি। একপর্যায়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা এখানে কী করছ?” তখন আমি কাদার মধ্যে থেকেই মাথা তুলে বললাম, “আপনি বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু আমরা শুধু আপনাকে দেখতে পারি কি না, সেই আশায় বের হয়েছিলাম।”’
View this post on Instagram
শেষে আলবারাসিন বলেন, ‘ট্রাকে ওঠার আগে তিনি আমাদের বারবার ধন্যবাদ জানালেন। এমনকি বললেন, আমরা নাকি তাঁকে বাঁচিয়েছি। যিনি পুরো আর্জেন্টিনাকে এত আনন্দ দিয়েছেন, তিনিই আমাদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন! তার ওপর তিনি আমাদেরই শহর মার দেল প্লাতার মানুষ। সত্যিই তিনি অনন্য। তিনি যখন আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন আমার মাথা গিয়ে ঠেকল প্রায় তাঁর বুকে। এতটাই লম্বা আর শক্তপোক্ত তিনি। তখন সাহস করে তাঁকে বললাম, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আমার বাড়িতে তাঁকে নিয়ে একটি ছোট্ট স্মৃতির জায়গা বানানো আছে।’
১১টা সেভ, তবু আর্জেন্টিনাকে বাঁচাতে পারলেন না মার্তিনেজমার্তিনেজের কাছ থেকে অটোগ্রাফ পাওয়ার বিবরণ দিয়ে আলবারাসিন বলেন, ‘সেদিন মোটরসাইকেলে করে দিবুকে খুঁজতে বের হওয়ার সময় আমরা তাঁর কোলো মুয়ানির শট ঠেকানোর ছবিসহ একটি পোস্টার, কয়েকটি জার্সি আর কিছু মার্কার সঙ্গে নিয়েছিলাম, যদি তাঁর দেখা পাই। শেষ পর্যন্ত তিনি সবকিছুতেই অটোগ্রাফ দিলেন। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। জীবনে এমন কিছু আমাদের সঙ্গে ঘটবে, কখনো কল্পনাও করিনি। পুরো পরিবারের সঙ্গে এমন অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত কাটানো সত্যিই জাদুকরি অভিজ্ঞতা। এরপর তিনি চলে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ থেমে জাতীয় দলের অফিশিয়াল জ্যাকেটটি খুলে আমাকে উপহার দিলেন। তখন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি। আবেগে ভেঙে পড়ে কেঁদে ফেলেছিলাম।’