‘কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে’—যেভাবে জঙ্গলে পাওয়া গেল অপ্রতীমের লাশ

· Prothom Alo

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রথমে ওই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন।

আজ বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় জিলানী লাশ পড়ে থাকতে দেখার বর্ণনা দেন।

Visit chickenroadslot.pro for more information.

অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে।

পেশায় শ্রমিক জিলানী বলেন, ‘আমরা কাজ করার জন্য আসছিলাম। কাজের জন্য বাঁশ লাগব। তাই বাঁশ কাটতে এদিক দিয়ে যাইতেছিলাম। যাওয়ার সময় ভাতিজা কইছে, “কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে।” পরে এখানে আইসা দেখি, মাথার দিকে রক্ত রক্ত। আমরা ভয় পাইয়া গেছি। কাজ (বাঁশ কাটা) ফালাইয়া দিয়া চইলা গেছি।’

তখন জিলানীর কাছে সময় দেখার মতো কোনো মুঠোফোন বা ঘড়ি ছিল না বলে জানান। তবে সূর্যের অবস্থান দেখে তাঁর ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনি ওই শিশুকে দেখতে পেয়েছেন।

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সড়কের ওঠার পর মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে জিলানীর দেখা হয়। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ। এরপর মামুন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

জিলানী বলেন, ‘মামুন ভাই কইল, ম্যাডামের বাচ্চা হারাইছে। (তখন আমি বলি,) ওইখানে একটা বাচ্চা পড়ে রইছে। পরে মামুন ভাই আমারে নিয়ে আবার এখানে আসে। এরপর দেখি এইটাই সেই বাচ্চা।’

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে পরিবার জানায়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কোটবাড়ি ও আশপাশের এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছিল।

‘এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম’

পরে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, ইশায়াতের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য অপ্রতীমের লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ জঙ্গল থেকে উদ্ধার

Read full story at source