হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ভাসান ও বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ ধরা যাবে না

· Prothom Alo

নৌযানে সংযুক্ত ‘ট্রল ডোর, ডেরিক ও উইংস’–এর সহায়তায় ভাসান জাল বা বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ ধরতে ১৫ জন নৌযান মালিককে বাধা না দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এই আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

Visit betsport.cv for more information.

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিনজনের পক্ষে করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ শনিবার এ আদেশ দেন।

এর ফলে এখন উপকুলীয় এলাকার মধ্যে কেউ বেহুন্দি জাল কিংবা ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারবেন না। একই সময়ে যে নিষেধাজ্ঞা (ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে) আছে, তা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরিদর্শন সনদ ও মাছ ধরার নৌযানের নিবন্ধন সনদ থাকা সত্ত্বেও মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার অভিযোগ তুলে এর আগে রিট করেন ১৫ জন পেশাদার জেলে ও সনদপ্রাপ্ত সামুদ্রিক ট্রলারমালিক। রিটে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই ট্রল ডোর, ডেরিক ও উইংসের সহায়তায় ভাসান জাল ও বেহুন্দি জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার অনুমতির বিষয়ে প্রার্থনা জানানো হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকায় মাছ ধরায় কোনো বাধা বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ছয় মাসের জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিনজন লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। আবেদনটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশটি ছিল ছয় মাসের জন্য। অর্থাৎ জুলাই থেকে যদি হিসাব করা হলে জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকে।…কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আদেশের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে আনা হয়। ওই আদেশের কারণে তারা প্রকৃতপক্ষে আইন ভঙ্গ করে মাছ না ধরার মৌসুমে জেলেদের বিরত রাখতে বাধ্য করতে এবং এসব নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।’

রিট আবেদনকারীরা যে জাল ব্যবহার করার জন্য অনুমতি পেয়েছেন, সেটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ আছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘বেহুন্দি জাল ব্যবহারে ২০১৩ সালে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, সারা বছরের জন্য। এটি কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। আরেকটি হচ্ছে ভাসান জাল, যা ব্যবহারে ২০২০ সালে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। বেহুন্দি ও ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা (রিট আবেদনকারীরা) কিন্তু হাইকোর্টের আদেশে এই জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য বাধা সৃষ্টি না করে—এমন একটি আদেশ পেয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালকের পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদনটি দায়ের করা হয়।’

Read full story at source