‘মাইরা ফেলার মতো কাজ তো করি নাই’: গুলির ঘটনায় আসিফ আকবর

· Prothom Alo

রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় এই শিল্পী বলেন, যাঁরা এই কাজটা করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন তাঁকে অনুসরণ করে, কখন, কোথায় কী অবস্থায় তিনি থাকেন, সেটা নিশ্চিত হয়েই করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার শত্রু কারা হইতে পারে, এটা আমি জানি না। কিন্তু মাইরা ফেলার মতো কাজ আমি করছি, এটা মনে করি না।’

আজ শনিবার রাতে মুঠোফোনে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে এ কথা বলেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

Visit bettingx.club for more information.

এর আগে শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তখন গাড়িতে ছিলেন না তিনি। এমনকি তাঁর চালকও ছিলেন না। গাড়ির চালকের পেছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে উল্লেখ করে আসিফ আকবর বলেন, ‘আমি যা মনে করি, সেটা বলে দেই, লিখে দিই, কারও সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শত্রুতা আমার নাই। যেটা ঘটছে, আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে যে বা যারা এই কাজটা করেছে তারা দীর্ঘদিন আমার গতিবিধি রেকি করেছে। তাদের স্টাডি আছে। তারা জানে আমি ঠিক ওই সময়, ফজরের নামাজের পরপর উপর থেকে নিচে নামি। আমি কোন দিক দিয়ে যাই। আমার শরীরের উচ্চতা কী। কারণ তারা গুলিটা যেখানে করছে, ঠিক আমার মাথা বরাবরই করছে।’

ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কারণে গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছেন জানিয়ে এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘আজ সৌভাগ্যবশত বের হওয়ার আগে আমার বড় ছেলে কানাডা থেকে ফোন দিয়েছে। কথা বলার একপর্যায়ে আমার ছেলে বলল সে মাগরিবের নামাজ পড়বে। কানাডাতে তখন মাগরিবের সময়। বাংলাদেশে তখন ফজর। পাঁচটা মিনিট পরে আমাকে ফোন দিতে চেয়েছে। তো আমি পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করলাম ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য। কথা বলে আরও ২৭ মিনিট পরে নেমেছি।’

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত এ গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়

ঘটনার সময় তাঁর গাড়িতে কেউ ছিলেন না জানিয়ে আসিফ আকবর বলেন, ‘আমি কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে বের হই। আমার কাঁধে একটা ব্যাগ থাকে সব সময়। তখন আমি সিসি ক্যামেরা দেখতেছিলাম, এ রকম একটা ছেলে কোচিংয়ে যাচ্ছিল সকালবেলা। ছেলেটা একটু দূরে ছিল। হয়তো তারা বুঝতে পারে নাই। গুলি করে দিয়েছে। আমার যেটা মনে হচ্ছে, যে ছেলেটা বা আমাকে যারা গুলি করছে, তারা আমার সময় জানে।’

নিজের প্রতিদিনের রুটিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আনফরচুনেটলি কালকে আমি একাই ছিলাম। আমার সঙ্গে সব সময় লোকজন থাকে। একসাথে আমার আড্ডা দিই। কিন্তু কালকে আমি একাই ছিলাম। আমার রুটিনই এটাই। ছোটবেলা থেকেই আমি এই রুটিনে চলি।’

আসিফ আকবরের চালকের পেছনের আসন বরাবর গুলি করা হয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের কারণে শত্রু তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ফেসবুকে খুব একটা আউটস্পোকেন (স্পষ্টভাষী) ছিলাম। আসলে যেটা অন্যায় মনে হয়, সেটাই বলি। এখানে কে কত বড়, কে কত শক্তিশালী, কে কত ভারী, সেটা আমি দেখি না। কখনো বলে ফেলি, লিখে ফেলি। তো এ জন্য হয়তো কিছু এনিমি (শত্রু) জন্মাতে পারে। কিন্তু মেরে ফেলার মতো কিছু আমি কাজ করি নাই। এটা আমার মনে হয় না যে আমাকে মেরে ফেলবে। এ রকম কোনো কাজ আমি করি নাই। এটা একটা কষ্টদায়ক আমার জন্য যে বাংলাদেশে আমাকে কেউ মেরে ফেলবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে আসিফ আকবর বলেন, ‘এসব কারণে আমি এখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সব বন্ধ করে দিছি। শুধুমাত্র ইউটিউব আর হোয়াটসঅ্যাপ চালাই এখন। সব বন্ধ করে দিছি। কমপক্ষে চল্লিশ দিন ধরে এটা করেছি। অতীতেও হইছে। প্রথমবারের মতো হয়েছে, বেশি ফোকাস হয়েছে। কারণ, এটা গুলি করে দিছে সরাসরি। গুলিটা এমনভাবে করেছে, বোঝা যায় আমাকে মারতেই আসছিল। পরিকল্পনাটা ওই রকমই ছিল। ফরচুনেটলি (ভাগ্যক্রমে) বেঁচে গেছি। আমার শত্রু কারা হইতে পারে, এটা আমি জানি না। কিন্তু মাইরা ফেলার মতো কাজ আমি করছি, এটা মনে করি না।’

এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে আসিফ আকবর বলেন, ‘এই ঘটনায় একটা মামলা করব। এটা তো নেওয়াই উচিত।’

এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগের দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে এক দুর্বৃত্ত গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিশাল সেন্টার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

Read full story at source