দুই যুগের পথচলায় নির্মাণশিল্পে আস্থার নাম আকিজ সিমেন্ট
· Prothom Alo

গুণগত মান, আধুনিক প্রযুক্তি ও ধারাবাহিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের সিমেন্টশিল্পে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে আকিজ সিমেন্ট। ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের অবকাঠামো ও নির্মাণশিল্পের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পের বিকাশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে দেশের সিমেন্টশিল্পের অগ্রযাত্রা। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে অবকাঠামো নির্মাণ, আবাসন, শিল্পকারখানা ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পের চাহিদা। এই পরিবর্তনশীল শিল্পে গুণগত মান, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থা ধরে রেখে দুই যুগ পূর্ণ করল আকিজ সিমেন্ট।
Visit raccoongame.org for more information.
২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা আকিজ সিমেন্ট শুরু থেকেই পণ্যের গুণগত মান ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা শিল্পোদ্যোক্তা শেখ আকিজ উদ্দিনের দূরদর্শী উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি সময়ের সঙ্গে নিজেদের উৎপাদনব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রমে এনেছে নানা পরিবর্তন। বর্তমানে আকিজ রিসোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে শক্তিশালী অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে আকিজ সিমেন্ট।
স্বপ্ন থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান
আকিজ সিমেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে—দেশের নির্মাণশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট সরবরাহ করা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তির ধারাবাহিক আধুনিকায়ন। শুরুতে বল মিল প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরবর্তী সময়ে ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়। ২০০৫ সালে জার্মান প্রযুক্তির ভিআরএম স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের নতুন ধাপ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে ডেনমার্কের এফএল স্মিথের আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হয় উৎপাদনব্যবস্থায়।
প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদন দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
আকিজ বিল্ডিং সলিউশনস লিমিটেডের ক্লাস্টার সিইও আসাদুল হক সুফিয়ানী বলেন, ‘সিমেন্টশিল্পে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। পণ্যের গুণগত মান, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন—এই তিনটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। আকিজ সিমেন্ট শুরু থেকেই এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দুই যুগের পথচলায় গ্রাহকদের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
গুণগত মানে আপসহীনতা
সিমেন্ট নির্মাণশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। একটি ভবন কিংবা অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মানের ওপর। এ কারণে সিমেন্ট উৎপাদনে কাঁচামাল নির্বাচন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব রয়েছে।
আকিজ সিমেন্ট উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং নিয়মিত মান যাচাইয়ের মাধ্যমে পণ্যের নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু বাজারে পণ্য সরবরাহ করা নয়, বরং নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার, নির্মাতা ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।
আকিজ রিসোর্সের চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌফিক হাসান বলেন, ‘আকিজ সিমেন্টের দুই যুগের পথচলা মূলত গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থা ধরে রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার গল্প। বাংলাদেশের নির্মাণশিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদা ও প্রত্যাশাও বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের মান, প্রযুক্তি ও সেবার ক্ষেত্রে নিজেদের আরও এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রতিযোগিতার বাজারে নিজস্ব অবস্থান
বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য, মূল্য, পরিবেশক নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকসেবার মতো বিষয়গুলো বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আকিজ সিমেন্ট গুণগত মান ও ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম সিমেন্টের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের মান এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
এ ক্ষেত্রে পরিবেশক ও বিক্রয় নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ, পরিবেশকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের কাছে পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আকিজ সিমেন্টের হেড অব মার্কেটিং সুব্রত কুমার সিংহ বলেন, ‘সিমেন্টের বাজারে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হলে পণ্যের মানের পাশাপাশি গ্রাহকের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা বুঝতে হয়। আমরা বাজারের পরিবর্তন, নির্মাণপ্রযুক্তির অগ্রগতি এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করি। আকিজ সিমেন্টকে একটি নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন ব্র্যান্ড হিসেবে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।’
পরিবেশ ও দায়িত্বশীল উৎপাদন
আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা এখন পরিবেশ সুরক্ষা। বিশেষ করে সিমেন্টশিল্পে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানিদক্ষতা বৃদ্ধি এবং ধুলা ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আকিজ সিমেন্ট উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমানো ও উৎপাদনদক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। উন্নত যন্ত্রপাতি, ধুলা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে দায়িত্বশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা রয়েছে।
একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রার অংশ।
সামনে আরও বড় হওয়ার প্রত্যাশা
দুই যুগের অভিজ্ঞতা নিয়ে আকিজ সিমেন্ট এখন ভবিষ্যতের বাজার সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করছে। দেশের অবকাঠামো, আবাসন ও শিল্প খাতের বিকাশের সঙ্গে সিমেন্টের চাহিদা ও গ্রাহকের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, পণ্যের মানোন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবায় আরও গুরুত্ব দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আকিজ সিমেন্টের দুই যুগের পথচলা তাই কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন নয়, বরং বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পের পরিবর্তন ও বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার একটি অধ্যায়। গুণগত মান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে আগামী দিনেও দেশের নির্মাণশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।