ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী বললেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান’
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প–সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। গত শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান—‘নীরবতা ভাঙুন’ এবং ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান’।
শুক্রবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক সাংবাদিক, শিল্পী ও লেখক এই সমাবেশে অংশ নেন। জেন ফন্ডার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে আসে বই নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানা হুমকির অভিযোগ।
Visit afrikasportnews.co.za for more information.
শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন্ডা বলেন, দেশে বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মারক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শিল্প–সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফন্ডা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এসব প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন এমন কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দেশে ঘটছে।’
জেন ফন্ডা। রয়টার্সকেন কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে প্রতিবাদ
এই সমাবেশের স্থান হিসেবে কেনেডি সেন্টার বেছে নেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘অপছন্দনীয়’ বা তথাকথিত প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো সীমিত করার চেষ্টা করছে।
ফন্ডা বলেন, শিল্পীরা আদর্শিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সংস্কারের অজুহাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রভাব
সমাবেশে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, বড় বড় করপোরেশন গণমাধ্যম কিনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে, যার ফলে ভিন্নমত বা সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।
বই নিষিদ্ধ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ
লেখক ও শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শত শত বই স্কুল লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
একজন লেখক প্রশ্ন তোলেন, ‘যে বইগুলো সরানো হচ্ছে, সেগুলো কি সত্যিই বিপজ্জনক—নাকি আমরা ভিন্নমতের ভয় পাচ্ছি?’
ইতিহাসের প্রতিধ্বনি
সমাবেশে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকের ম্যাককার্থিজমের সময় যেমন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টানেন বক্তারা।
তাঁদের মতে, শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।
শেষ বার্তা
সমাবেশের শেষে জেন ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেন্সরশিপ বাড়বে এবং সমাজে মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হবে।
তাঁর কথায়, ‘ভয় ছড়িয়ে পড়লে নীরবতা তৈরি হয়। আর সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এখনই সময় কথা বলার।’
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে