ভিনগ্রহে রহস্যময় বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

· Prothom Alo

মহাকাশের অসীম দূরত্বে ছড়িয়ে আছে এমন সব অদ্ভুত গ্রহ, যেগুলোর আবহাওয়া ও পরিবেশ আমাদের চেনা পৃথিবীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্যাসীয় গ্রহগুলোতে তাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কথা। কিন্তু ফ্রান্সের কোৎ দাজুর অবজারভেটরির বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণায় বেশ কিছু গ্রহে রহস্যময় বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীদের এ যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গ্যালাক্সির সবচেয়ে উত্তপ্ত ও বিশালাকার গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলীয় বাতাস ধারণার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। মহাকাশবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, একটি গ্রহ যত বেশি উত্তপ্ত হবে, তার বায়ুমণ্ডলের বাতাসের গতি ও স্রোত তত বেশি শক্তিশালী হবে। উত্তপ্ত গ্রহগুলো সাধারণত তাদের স্বাগতিক নক্ষত্র বা সূর্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, ফলে অতিরিক্ত তাপের কারণে বেশ কিছু গ্রহ অক্ষরেখায় বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, সাতটি হট জুপিটার গ্রহের বাতাস প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে বইছে।

Visit librea.one for more information.

বিজ্ঞানীদের ধারণা, সম্ভবত কোনো একটি অদৃশ্য শক্তি গ্রহগুলোর প্রচণ্ড গতিশীল বাতাসকে টেনে ধরে রাখছে। আর বাতাসকে থামিয়ে দেওয়ার এই শক্তিশালী ব্রেকিং ইফেক্ট বা বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়া মূলত একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে ঘটছে। যদি বিজ্ঞানীদের এ ধারণা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, তবে এই ধীরগতির বাতাসই হবে সৌরজগতের বাইরে থাকা কোনো গ্রহে চৌম্বকীয় সক্রিয়তা থাকার সবচেয়ে বড় ও সেরা প্রমাণ।

ভিনগ্রহে রহস্যময় বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞানী জুলিয়া সাইডেল বলেন, ‘যুগান্তকারী এই আবিষ্কার বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণায় সম্পূর্ণ নতুন একটি জানালা উন্মোচন করেছে। এটিই প্রথমবার যখন আমরা অন্যান্য পৃথিবীর চৌম্বকীয় পরিবেশের তুলনা করতে পারছি। কোন কোন গ্রহ মহাকাশে টিকে থাকতে বা পানি ধরে রাখতে পারে, তা জানার জন্য এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা যায়।’

হট জুপিটার গ্রহগুলোর বাতাসের গতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার পেছনে আরও বেশ কিছু ব্যাখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে এটি হলে ফলাফল সম্পূর্ণ উল্টো হতো, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিও বেড়ে যেত। এই উল্টো ও অদ্ভুত প্রবণতার বিষয়ে বিজ্ঞানী ভিভিয়েন পারমেনটিয়ার বলেন, এটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বা আমাদের চেনা ধারণার বাইরের একটি বিষয়। কারণ অন্য সবকিছু ঠিক থাকলে, উত্তপ্ত গ্রহগুলোয় বাতাসকে আরও দ্রুত ত্বরান্বিত বা গতিশীল করার জন্য অনেক বেশি শক্তি থাকার কথা। নিশ্চিতভাবেই এমন কিছু ঘটছে যা আরও বেশি উত্তপ্ত বস্তুর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Read full story at source