হৃদয়ে প্রশান্তি পেতে নবীজির শেখানো ৩টি দোয়া

· Prothom Alo

প্রকৃত সুখ ও প্রশান্তির মূল উৎস হলেন মহান আল্লাহ, যিনি সকল কল্যাণের আধার। আধুনিক মনস্তত্ত্ব স্বীকার করে যে ইতিবাচক চিন্তা ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করে।

Visit bettingx.club for more information.

ইসলামে এই দুটি বিষয়কে অত্যন্ত চমৎকারভাবে দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার মধ্যে সমন্বিত করা হয়েছে।

মহানবীর শেখানো তিনটি কালজয়ী জিকির ও দোয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা আমাদের মনকে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি ও প্রশান্তিময় সুখে ভরিয়ে দেবে।

১. প্রথম দোয়া: আল্লাহর প্রতি নিখাদ সন্তুষ্টি

সত্যিকারের সুখ শুধু আখেরাতে স্রষ্টার সঙ্গে মিলনেই সম্ভব। তবে এই দুনিয়াতেও আত্মাকে শান্ত রাখার সুন্দর একটি জিকির মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন।

বলেছেন, যেকোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সকালে ও সন্ধ্যায় নিচের দোয়াটি পড়ে, তবে কেয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা মহান আল্লাহর জন্য এক সুনিশ্চিত ওয়াদা হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৭০)

দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে

উচ্চারণ: রাযীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দ্বীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।

অর্থ: আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার নবী হিসেবে গ্রহণ করেছি।

প্রতিদিন এই বাক্যটি উচ্চারণের মাধ্যমে আমাদের মনে এই অনুভূতির দৃঢ়তা তৈরি হয় যে যে আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দিয়েছেন, যিনি আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন—আমরা তাঁর ফয়সালাতেই সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।

২. দ্বিতীয় দোয়া: আল্লাহর ওপর পরম আস্থা

জীবনের বড় কিংবা ছোট যেকোনো সংকটকালে আত্মিক স্থিরতা পাওয়ার জন্য প্রিয় নবী (সা.) আমাদের একটি বিশেষ জিকির করতে বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৫৬৩)

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।

 অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

দোয়া কবুলের বিশেষ ১০ সময়

যখন চরম বিপদেও মানুষ বলে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল’, তখন তার অর্থ দাঁড়ায় সে নিজের জীবনের সব নিয়ন্ত্রণ সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতে সঁপে দিয়েছে। আর এই নিঃশর্ত সমর্পণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অসীম মানসিক স্বাধীনতা ও মুক্তি।

৩. তৃতীয় দোয়া: হৃদয়কে স্থির রাখার আকুতি

হতাশা ও বিষণ্ণতা এমন এক অবস্থা, যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হতে থাকে। মন খারাপ থাকলে মানুষের শরীরও অলস ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় ইমান ও আত্মিক শক্তিকে সজীব রাখা অত্যন্ত জরুরি। 

তাই মহানবী (সা.) প্রায়ই একটি দোয়াটি পাঠ করতেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০)

উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা দীনিক।

অর্থ: হে হৃদয়ের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার ধর্মের ওপর অবিচল রাখুন।

আনাস (রা.) যখন নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার ওপর ও আপনার আনা হেদায়েতের ওপর ইমান এনেছি, তবুও কি আপনি আমাদের ব্যাপারে কোনো ভয় পান?’

নবীজি (সা.) জবাবে বললেন, ‘হ্যাঁ, মানুষের অন্তর তো আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত; তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০)

সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হজরত আলীকে শেখানো নবীজির দোয়া

Read full story at source