ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ কথাগুলোর মানে কী
· Prothom Alo

‘সংরক্ষণবিধি: আলো থেকে দূরে, শুষ্ক স্থানে ও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন।’ ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ ধরনের সতর্কীকরণের সঙ্গে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, যে দেশে প্রচণ্ড তাপদাহ, তাপমাত্রা শীতের দুপুরেও ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই, সেখানে কি ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে? আবহাওয়ার কারণে অ্যান্টিবায়োটিক কি আমাদের ফ্রিজে রাখা উচিত?
অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল
শুষ্ক স্থানে, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। শুষ্ক স্থান বলতে আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচল একদমই কম এমন জায়গাকে বোঝায়।
Visit afnews.co.za for more information.
বাক্স, ড্রয়ার বা আলমারির মধ্যে তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে রাখুন।
যে ঘরে এসি আছে, সেই ঘরের যেকোনো স্থানে রাখতে পারবেন।
ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। কেননা ফ্রিজে রাখলে বরফ জমে, বাষ্পে ভিজে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। কোনো ওষুধ যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণের কথা বলা হয়, সেগুলো রাখা যাবে।
জানালার পাশে বা সূর্যালোকে রাখবেন না। সূর্যের আলোর তাপমাত্রা ও রশ্মি ওষুধের কেমিক্যাল পরিবর্তন ঘটিয়ে গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। তবে কৃত্রিম আলোর এমন সমস্যা নেই। তাই সূর্যালোকে নয়, ওষুধ কৃত্রিম আলোতে রাখা যাবে।
শিশুদের লিকুইড অ্যান্টিবায়োটিক
কিছু লিকুইড অ্যান্টিবায়োটিক (সাসপেনশন) ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো। কারণ, গরমে এদের কার্যক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে মাথায় রাখতে হবে, ডিপ ফ্রিজে নয়, অবশ্যই সেটা ফ্রিজের নরমাল অংশে রাখবেন। ফ্রিজের দরজা থেকে দূরে, তাকের মাঝামাঝি স্থানে ভালো করে মুড়িয়ে সংরক্ষণ করবেন। দরজার কাছে রাখলে বারবার খোলা-বন্ধ করার কারণে তাপমাত্রার ওঠানামা হয়, ব্যাহত হয় ওষুধের গুণগত মান।
তবে সব লিকুইড ফ্রিজে রাখা যাবে না। যেমন অ্যাজিথ্রোমাইসিন–জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ফ্রিজে রাখলে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের বাক্সের গায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ অথবা অভিজ্ঞজনের পরামর্শ গ্রহণ করা উত্তম।
ঘুমের ওষুধ কেন ক্ষতিকরওষুধ শুষ্ক স্থানে, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুনবিশেষ ক্ষেত্রে
প্রচণ্ড গরমে যদি দেখতে পান আপনার ওষুধের আকার, রং, ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়েছে অথবা ওষুধ পরস্পরের সঙ্গে লেগে গেছে বা গলে যাচ্ছে, তখন আর সেগুলো ব্যবহার করবেন না। খেয়াল রাখবেন, কোনোভাবেই যেন বাতাসের সংস্পর্শে না আসে।
প্রতিটি ওষুধের গঠন ও উপাদানগত পার্থক্য থাকে। সুতরাং প্রতিটি নির্দেশনা ভালো করে পড়ুন, সম্ভব হলে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করে নিন।
ইশমাম সাকীব: সহকারী সার্জন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
জাপানি শিশুরা কেন বাড়ি ফিরেই গরগরা করে? এতে কি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?