হাইটেক পার্কে অবকাঠামো নয়, এখন দরকার দক্ষ জনবল
· Prothom Alo
দেশজুড়ে একের পর এক হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে উঠলেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। বিপুল অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। তাই এখন অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ এবং উদ্যোক্তাদের কার্যকর সহায়তার দিকে নজর দিতে হবে।
Visit mwafrika.life for more information.
আজ শনিবার সকালে ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় আলোচকেরা এ কথা বলেন। সভার আয়োজক পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)।
সভায় হাইটেক পার্কগুলো সফল না হওয়ার পেছনে বিদ্যমান ইপিজেড বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সেগুলোকে যুক্ত না করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় স্থাপন করাকে দায়ী করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোর মূল ব্যর্থতা হলো এমন অঞ্চলে ভারী ভৌত অবকাঠামো স্থাপন করা, যেখানে কার্যকর স্থানীয় অর্থনীতি নেই। এই সমস্যা শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশিক্ষণব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম রকনুজ্জামান বলেন, শুধু অবকাঠামোই একটি হাইটেক বিপ্লব ও বিনিয়োগ টেনে আনবে, এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম, দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ নিশ্চিত না করেই এসব করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে এই ধারণা সঠিক ছিল না।
ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফেল কবির বলেন, হাইটেক পার্কগুলোর উচিত ছিল মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনে জোর দেওয়া, পাশাপাশি সম্পূর্ণ ইপিজেড-মানের অবকাঠামো সরবরাহ করা।
যশোর হাইটেক পার্ক সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অংশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, পার্কটিতে বর্তমানে অবস্থানরত ৪০টি কোম্পানি কার্যকর সহায়তা ছাড়াই স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সংগ্রাম করছে। কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে না দেখে শুধু ভাড়াটে হিসেবে দেখে। প্রশিক্ষিত জনবল দ্রুত চলে যায়। স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত দুর্বল এবং ইউটিলিটির খরচ অনেক বেশি।
সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্পচালিত প্রশিক্ষণ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
এতে আরও বক্তব্য দেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমান, নেট্রো সিস্টেমস লিমিটেড ও টেলজেনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. আশাফুদ্দোজা শিশির প্রমুখ।